
ফরিদপুরের ভাঙ্গা উপজেলার পৌরসদরের চন্ডিদাসদী গ্রামে বধ্যভূমির পাদদেশে সাধারন নাগরিক সমাজ এবং সমাজতান্ত্রিক মহিলা ফোরামের আয়োজনে পুষ্পস্তবক অর্পন, প্রদীপ প্রজ্জলন এবং আলোচনাসভার মধ্য দিয়ে শহীদ বুদ্ধিজীবি দিবস পালিত হয়েছে। (১৪ ডিসেম্বর) সন্ধ্যয় ভাঙ্গা উপজেলা সাধারন নাগরিক সমাজের আহবায়ক সাবেক অধ্যক্ষ মোসায়েদ হোসেন ঢালীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন উপজেলা নির্বাহী অফিসার আজিম উদ্দিন।
Thank you for reading this post, don't forget to subscribe!প্রথমে ১৯৭১ সালে পাক হানাদার বাহিনী এবং তার দোসর রাজাকারদের সহায়তায় গনহত্যার নির্মম স্বাক্ষী হিসেবে শহীদদের স্মৃতি সংরক্ষনের জন্য নির্মিত স্মৃতিস্তম্ভে পুষ্পস্তবক অর্পণ করা হয়। পরে বেদীদে প্রদ্বীপ প্রজ্জলন শেষে এক আলোচনাসভা অনুষ্ঠিত হয়।
আলোচনসভায় রনাঙ্গনের বীর মুক্তিযোদ্বা, প্রত্যক্ষদর্শী এবং শহীদ পরিবারের সদস্যরা স্মৃতিচারন করে বক্তব্য দেন। বক্তারা সেদিনের হত্যাকান্ডের লোমহর্ষক বর্ননা দেন। রনাঙ্গনের বীর মুক্তিযোদ্বা আঃ আজিজ টুকু মোল্লা, মিয়ান আঃ ওয়াদুদ সামৃতিচারন করে বলেন, পাকবাহিনী চাঁদহাটে অবস্থান নেওয়ার খবরে আমরা মুক্তিযোদ্বারা জড় হয়ে আক্রমন করি এবং জীবন বাজি রেখে লড়াইয়ের এক পর্যায়ে প্রায় ২২ জন পাকহানাদারকে গ্রামবাসীদের সহায়তায় ধরে হত্যা করা হয়।
শহীদ পরিবারের সদস্য বাদল মুন্সী, বিল্লাল শিকদার নির্মম হত্যাকান্ডের বর্ণনা দিয়ে আক্ষেপ করে বলেন, আজও আমরা ত্যাগ-তীতিক্ষা সত্যেও বধ্যভূমি সংরক্ষন কিংবা আজও আমরা রাষ্ট্রীয়ভাবে শহীদ পরিবারের স্বীকৃতি পাইনি।
অনুষ্ঠানের দ্বিতীয় পর্বে ১০০টি মোমবাতি প্রজ্জলন এবং প্রভাষক দিলীপ দাসের সঞ্চালনায় এক সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। এতে মিয়া বে-নজীর আহমেদের নেতৃত্বে উদীচী শিল্পীগোষ্ঠী সংগীত পরিবেশন এবং কবিতা আবৃতি করেন এ্যাপোলো নওরোজ, প্রভাষক ঝুমুর দাস প্রমুখ।
এ সময় আরও উপস্থিত ছিলেন সংগঠনের যুগ্ন আহবায়ক অধ্যাপক সরোয়ার হোসেন, সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান সুধীন সরকার মঙ্গল, রনাঙ্গনের মুক্তিযোদ্বা মিয়ান আব্দুল ওয়াদুদ, আঃ আজিজ টুকু মোল্লা, মাহবুব হোসেন মোতালেব, উপজেলা আওয়ামীলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক শরীফুজ্জামান শরীফ, উদীচীর সাধারন সম্পাদক কমরেড লিয়াকত হোসেন, মাহমুদা হোসেন, শহীদ পরিবারের সদস্য বাদল মুন্সী, বিল্লাল শিকদার সহ অন্যান্যরা।