1. [email protected] : admin :
  2. [email protected] : ডেস্ক রিপোর্ট : ডেস্ক রিপোর্ট
বুধবার, ২৬ জানুয়ারী ২০২২, ০৮:০৩ অপরাহ্ন
শিরোনাম
নড়াইলে অস্ত্র মামলায় ১জনের যাবজ্জীবন কারাদন্ড নড়াইলে হত্যা মামলায় একজনের ফাঁসি ও অপরজনের যাবজ্জীবন কারাদণ্ড ইতালী আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আবু তাহেরের মায়ের মৃত্যুতে হাসান ইকবালের শোক ষড়যন্ত্র করে শেখ হাসিনার নেতৃত্বে বাংলাদেশের উন্নয়ন গুলো কোনভাবেই বন্ধ করতে পারবে না: হাসান ইকবাল নাগরপুরে মাস্ক না পরায় ৯ মামলায় ৭ হাজার ৬শত টাকা জরিমানা নাগরপুরে ৪ কেজি গাঁজাসহ গ্রেপ্তার ১ নাগরপুরে শিশু-কিশোরীদের মাঝে কম্বল বিতরণ নাগরপুরে একতা সাংস্কৃতিক উন্নয়ন সংস্থার শীতবস্ত্র বিতরণ শহীদ আসাদ গণতন্ত্রপ্রেমী মানুষের মাঝে স্মরণীয় হয়ে থাকবেন: হাসান ইকবাল  ঠাকুরগাঁওয়ে দৈনিক ভোরের দর্পন পত্রিকার ২১তম প্রতিষ্ঠা বার্ষিকী কেক কেটে পালন

“ফিরে এসেছে খালেদ”

সংবাদ দাতার নাম
  • সময় : শনিবার, ৩০ মে, ২০২০
  • ২৭৩ জন পড়েছেন

ফারজানা চৌধুরী পাপড়ি
“ফিরে এসেছে খালেদ”

এক অসহায় বোন ফোন করে আকুতি করে বলল “তুইতো এখন লিখালিখি করিস, আমার ভাইটির জন্য ফেইসবুকের মাধ্যমে সবাইর কাছ থেকে দোয়া চেয়ে নিস। জানিয়ে দে আমার ভাই করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে লন্ডনের একটি হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে। সবাইকে আমার ভাইটার জন্য দোয়া করতে বলবি।”
পরপর ২য় দিন “কেঁদে কেঁদে বলল আমার ভাইটা লাইফ সাপোর্টে। খিচুরী খেতে চেয়েছিল, ওর বউকে একটু খিচুরী বানিয়ে আনতে অনুরোধ করেছিল, কিন্তু খিচুরী নিয়ে যাবার আগেই চলে যেতে হলো লাইফসাপোর্টে।” ৩য় দিন কিছুটা শান্ত গলায় বলল” সবার দোয়া আল্লাহ বোধহয় কবুল করেছেন। ডাক্তার বলেছে, ৮৫% ঝুঁকি থেকে ৬৫% ঝুকিতে আছে। যখন ৪৫% ঝুকিতে চলে আসবে আমার ভাই লাইফসাপোর্ট থেকে বের হয়ে আসবে।”
চতুর্থ দিন আবার কান্না কন্ঠে বলল” ডাক্তার বলেছে ৪৫% ঝুঁকিমুক্ত হলেও লাইফসাপোর্ট থেকে কিন্তু ওর কাছ থেকে কোন সাড়া পাওয়া যাচ্ছেনা। এক সপ্তাহ পর্যন্ত অপেক্ষা করবে, এরমধ্যে সাড়া না মিললে লাইফসাপোর্ট খুলে ফেলবে। তারপর বোনটি বিদেশের সব টেক্সি চালককে সতর্কতা অবলম্বনের অনুরোধ করলো। সে বলল “আমি চাইনা আমার ভাইয়ের মতো আর কেউ এরকম পরিস্থিতির সম্মুখীন হোক।”
এভাবে চলে গেল দুই মাস। কিছুদিন পড়ে বোন ফোন করে জানালো,আল্লাহতাহালার অসীম কৃপায় এবং সবার দোয়ায় অবশেষে ভেন্টিলেটর খুলে ভাইটিকে সাধারণ ওয়ার্ডে স্থানান্তর করা হয়েছে। ভাই এখন একটু একটু কথাও বলতে পারছে।
এতক্ষণ যে ভাইটির কথা লিখছিলাম সে ছিল আমার পাড়ার ভাই। একই পাড়ায় আমাদের বেড়ে ওঠা। সে ছিল খুব সুন্দর একটা ছেলে। আমরা তাকে সালমান শাহ নাম দিয়েছিলাম। ছোটবেলা থেকে ফুটবলের প্রেমিক ছিল। ভাই- বোনদের ছোট অনেক আদরের ভাই ছিল সে। ওর ছোট বোন আদর করে মুখে তুলে ভাত খাওয়াতো, যা কি-না আমার নিজের চোখে দেখা। সেই ছেলেটির নাম “খালেদ।”
খালেদ ছিল অত্যন্ত ভাল একটা ছেলে। বিনয়, নম্রতা, ভদ্রতা ইত্যাদি সবকিছুই ওর মধ্যে বিদ্যমান ছিল। পাড়ার ছোট থেকে বড় সবাই খালেদকে পছন্দ করতেন, ভালবাসতেনও বটে।
খালেদ লন্ডনে টেক্সি চালাক ছিল। এয়ারপোর্ট থেকে যাত্রী আনা -নেওয়া করতো। একদিন এক যাত্রীকে এয়ারপোর্ট থেকে তুলে গন্তব্যে পৌঁছে দেয়। ঘরে ফেরার কিছুক্ষণের মধ্যেই শ্বাস কষ্ট অনুভব করতে লাগল। অবশেষে অক্সিজেনের জন্য হাসপাতাল যেতে বাধ্য হলো। সিলেট হাউজিং এস্টেটের ছোট্ট খালেদ আজ সেই হাসপাতাল থেকে মুত্যুর সাথে পাঞ্জা লড়ে করোনা যুদ্ধে বিজয়ী হয়ে নিজ ঘরে চলে এসে পরিবারের সাথে ঈদ করেছে।

সংবাদটি আপনার সামাজিক মাধ্যমে শেয়ার দিন

এই ক্যাটাগরীর আরোও সংবাদ

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

বিশেষ সংখ্যা